তীব্র গরমে বছরে নষ্ট ২৯ বিলিয়ন কর্মঘণ্টা, সবচেয়ে বেশি বিপাকে যে খাত
অর্থনীতি · 2026-10-28T14:12:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাপের কারণে বাংলাদেশে ২৯ দশমিক ২৫ বিলিয়ন সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যার ৬৪ শতাংশ কৃষি খাতে। এসব কর্মঘণ্টার অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র গরমে বাংলাদেশে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ২০২৪ সালে তাপের কারণে দেশে ২৯ দশমিক ২৫ বিলিয়ন সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ কর্মঘণ্টাই নষ্ট হয়েছে কৃষি খাতে। নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, তাপের কারণে নষ্ট হওয়া এসব কর্মঘণ্টার অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ অতিরিক্ত গরম শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে না, উৎপাদনশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতি করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিন ছিল ২৮টি, যা গত ৪৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় শূন্য দশমিক ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাতে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তাপের কারণে নষ্ট হওয়া সম্ভাব্য কর্মঘণ্টার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিতে। ফলে কৃষিকাজে যুক্ত মানুষের কাজের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর তাপের প্রভাব পড়ছে বলে গবেষণার ফল থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাপের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর অর্থনৈতিক মূল্য ১ দশমিক ৪ থেকে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাপজনিত মৃত্যুর জন্য দেশে জাতীয় পর্যায়ে পৃথক নিবন্ধনব্যবস্থা নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তাপমাত্রার সঙ্গে ডেঙ্গুর সম্পর্ক নিয়েও গবেষণায় তথ্য দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলার দৈনিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্য জেলার তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ জেলায় ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৮ থেকে ২৪ শতাংশ বেশি। তাপমাত্রার প্রভাবের সর্বোচ্চ মাত্রা দেখা যায় ১৪ থেকে ২১ দিন পর। গবেষকদের মতে, আবহাওয়ার তথ্য কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এসব প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণায় কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের আগে হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, বর্ষার আগে ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা চালু এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কক্সবাজার, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামসহ ১৬টি অগ্রাধিকার জেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তীব্র গরমের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া বাংলাদেশের জন্য শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও। বিশেষ করে কৃষি খাতে তাপের প্রভাব কমাতে আগাম সতর্কতা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।