শ্রীমঙ্গলের সময়

অভিষেকের ৩৮ বলে সেঞ্চুরি, নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ জয়ের পথে ভারত

খেলা · 2026-10-27T12:08:01.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

অভিষেক শর্মার ৩৮ বলে ১১৩ রান ও বৈভব সূর্যবংশীর ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ১৯৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারে পেরিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছে ভারত। অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও বৈভব সূর্যবংশীর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১৯৮ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারেই পেরিয়ে গেছে ভারতীয় দল। ৬ উইকেটের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হয়ে রান তোলার গতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যান ভারতীয় ব্যাটাররা, যা ম্যাচের মোড় দ্রুত বদলে দেয়। ৪০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। ব্যাটিংয়ে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ধরে রাখে দলটি।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে ড্যারিল মিচেল অপরাজিত ৮৯ রান করেন। ৫২ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কা মারেন তিনি। ফিন অ্যালেন ২৫ বলে ৪০ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে গ্লেন ফিলিপস ১৪ বলে ১৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত মিচেলের অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড। তবে ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে সেই সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।

১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি বড় শট খেলায় মনোযোগী ছিলেন তিনি। দুই ব্যাটারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারতের রান দ্রুত বাড়তে থাকে। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় ব্যাটারদের রান তোলার গতি থামাতে পারেননি। ফলে বড় লক্ষ্যও ভারতের কাছে সহজ হয়ে ওঠে।

এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে নয়টি চার ও ১১টি ছক্কা। দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে কার্যত অকার্যকর করে দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ইনিংসের প্রতিটি পর্যায়েই ছিল বড় শট খেলার আত্মবিশ্বাস। চার ও ছক্কার সমন্বয়ে দ্রুত রান তোলার ফলে ভারতের প্রয়োজনীয় রানরেট নিয়ে কোনো চাপ তৈরি হয়নি। অভিষেকের এই সেঞ্চুরি ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তাঁর ব্যাটিংয়ের সুবাদে অল্প সময়ের মধ্যেই জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ভারত।

ভারতের অন্য ব্যাটারদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসন ১৩ বলে ১৮ রান করেন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাঁচ বলে পাঁচ রান করে আউট হন। তিলক ভার্মা এক রান এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি চার রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত থেকে ভারত পায় ১৩ রান। সব মিলিয়ে ১৩.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে কাইল জেমিসন দুটি উইকেট নেন। ম্যাথু ফিশার ও মিচেল স্যান্টনার একটি করে উইকেট পান। তবে উইকেট পেলেও ভারতের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি কিউই বোলিং ইউনিট।

ম্যাচের ফল ভারতের ব্যাটিং শক্তি ও দ্রুত রান তোলার সক্ষমতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ১৯৯ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ হলেও অভিষেক ও সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে সেটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়নি। বিশেষ করে অভিষেকের ৩৮ বলে ১১৩ রান ভারতের জয়ের ব্যবধান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংসও শেষ পর্যন্ত দলকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে ভালো সংগ্রহ গড়েও বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ভারতের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেন।

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে দলটি। নিউজিল্যান্ডের সামনে এখন বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ভারতের ব্যাটিং বিভাগ যে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে, এই ম্যাচ তারই প্রমাণ। অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং বৈভব সূর্যবংশীর দ্রুতগতির ইনিংস ভারতীয় সমর্থকদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ৪০ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেওয়া দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে ভারতের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত